দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান নীতিমালা-২০১৫ (সংশোধীত) - সকল গেজেট এক ঠিকানায় || All gazettes are in one site.

দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান নীতিমালা-২০১৫ (সংশোধীত)


দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান নীতিমালা-২০১৫ (সংশোধীত)দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান নীতিমালা।ম্মানীত ভিজিটর, সরকারি-বেসরকারি প্রজ্ঞাপন ও চিঠি-পত্র সমৃদ্ধ এ বাংলা ব্লগ সাইটে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। অনুগ্রহপূর্বক, পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। প্রিয় পাঠক, আপনি যদি আমার এই অলগেজেটস ডট কম সাইটে নতুন এসে থাকেন; তাহলে, সাইটে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত নতুন পোষ্টের আপডেট পেতে-
প্লিজ, সাইটের ফেসবুক পেজে” লাইক দিয়ে সাইটটির সঙ্গেই থাকুন। আর যদি ইতোমধ্যে আপনি “ফেজবুক পেজে” লাইক দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে আবারও স্বাগত জানাচ্ছি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রজ্ঞাপন ও চিঠি-পত্র একত্রে, একসঙ্গে পাবার এ পাঠকপ্রিয় বাংলাদেশী বাংলা ব্লগে। আশা করি, পরবর্তীতে আবারও এসে ধন্য করবেন “সকল গেজেট এক ঠিকানায়” শিরোনামের এ বাংলা ব্লগে।
পাঠক, আপনাদের সকলের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে এ ব্লগে আয়োজন করেছি-প্রাথমিক শিক্ষার অফিস আদেশ ও পত্র, প্রাথমিক শিক্ষার প্রজ্ঞাপন, মাধ্যমিক শিক্ষার প্রজ্ঞাপন ও পত্র, উচ্চ শিক্ষার প্রজ্ঞাপন ও পত্র, শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ম্যানুয়াল, শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও ম্যানুয়াল, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রজ্ঞাপন ও পত্র, পাঠ্য বইয়ের ই-সংষ্করণ, ধর্মীয় ই-বুকসমূহ, আইন ও বিধিমালার ই-বুকসমূহ, জাতীয় পরিচয় পত্র বিষয়ক প্রজ্ঞাপন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের প্রজ্ঞাপন ও পত্র, জাতীয় বেতন স্কেলসমূহ, বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার প্রজ্ঞাপন ও পত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি গুরূত্বপূর্ণ গেজেট, পরিপত্র ও পত্রাদি। এবার আসা যাক, আজকের পোষ্টের কথায়।

--------------------------------------------------
আরও দেখুন-

--------------------------------------------------

দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান নীতিমালা।







১.০। পটভূমিঃ

১.১। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ১৫,০৯,১০,৪৪৮ জন। তন্মধ্যে মহিলার সংখ্যা ৪৯.৯৪% । ২৪.৬% লোক দরিদ্র। এর মধ্যে গ্রামে বসবাসরত জনসংখ্যা বেশী। ১৫-৪৯ বৎসর বয়সের মহিলার সংখ্যা ৫১.২%। এদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা খুবই খারাপ। বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। সুতরাং বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্ব তথা মা ও শিশু স্বাস্থ্যের ঝুকি মোকাবেলাসহ মা শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করা অতি জরুরী। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার ২.৩৮% হতে ১.৩৭% এ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের ধারণা শুধুমাত্র মাতৃস্বাস্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মাতৃস্বাস্থ্যের যত্নের বিষয়টি মানবাধিকার ও নৈতিকতার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কীয় বলে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। (তথ্য ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী)

১.২। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাতাভোগীর সংখ্যা, কর্ম এলাকা ও ভাতার পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করা হবে। প্রসংগত ২০০৫ সালে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষ্যে বেসরকারী সংস্থা ডরপ এর উদ্যোগে দেশে সর্বপ্রথম পাইলটাকারে অতি দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচী শুরু হয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে রাজস্বখাত হতে সরকারীভাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর মাধ্যমে এ কর্মসূচী শুরু হয়। সেই থেকে কর্মসূচির নাম করন করা হয় “দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান কর্মসূচি”।
 


পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাদের দুঃখ দুর্দশা লাঘব, মা ও শিশু মৃত্যু হার হ্রাস, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করার উদ্দেশ্যে এবং সুষ্ঠু সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশায় সরকার মাতৃত্বকাল ভাতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরের বাজেটে ১৭.০০ (সতের কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করে। কর্মসূচির শুরুতে ৩০০০ ইউনিয়নের প্রতিটিতে ১৫ জন করে মোট ৪৫০০০ (পয়তাল্লিশ হাজার) দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে ৩০০.০০(তিনশত) টাকা করে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান করা হয়। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের মাসিক ৫০০.০০(পাঁচশত) টাকা করে সমগ্র বাংলাদেশের ৪৫৪৭টি ইউনিয়নে ২২০০০০(দুই লক্ষ বিশ হাজার) ভাতাভোগীকে ১৩২.০০ (একশত বত্রিশ কোটি) কোটি টাকা মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মাতৃত্বকাল ভাতা বাবদ ১৬৯.৪০ (একশত উনসত্তর কোটি চল্লিশ লক্ষ) টাকা সমগ্র বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৮৮টি উপজেলার অন্তর্গত ৪৫৪৭টি ইউনিয়নের ২৬৪০০০ জন ভাতাভোগীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতি বছর বাজেট বরাদ্দ ও সরকারী ঘোষণার প্রেক্ষিতে ভাতাভোগীর সংখ্যা, ভাতার পরিমাণ ও প্রশিক্ষণ বাবদ সার্ভিস চার্জের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়।




২.০ কর্মসূচির কৌশলগত উদ্দেশ্যঃ

ক. SDG ১, ৩, ৪, ৫ নং লক্ষ্য অর্জন বিশেষত মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস।
খ. মাতৃদুগ্ধ পানের হার বৃদ্ধি।
গ. গর্ভাবস্থায় উন্নত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধি।
ঘ. প্রসব পূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা বৃদ্ধি ।
ঙ. বিভিন্ন টিকা প্রদানের হার বৃদ্ধি।
চ. যৌতুক, তালাক ও বাল্য বিবাহ প্রবণতা রোধ।
ছ. জন্ম নিবন্ধন উৎসাহিত করণ।
জ. বিবাহ নিবন্ধন উদ্বুদ্ধকরণ।
ঝ, বাল্য বিবাহ, শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ।

৩.0| কর্মসূচির নাম ও এলাকাঃ

“দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান” কর্মসূচি সমগ্র বাংলাদেশের সকল ইউনিয়ন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাতাভোগীর সংখ্যা, ভাতার পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করা হতে পারে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীনস্থ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।





৪.০ বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিঃ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ বাস্তবায়ন কাজ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

৪.১। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটিঃ

হত দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে নীতি নির্ধারণ ও দিক নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি রয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহা পরিচালক উক্ত কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

৪.২ মাতৃত্বকাল ভাতা জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটিঃ

 

১. সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়           চেয়ারম্যান
২. প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগ                       সদস্য
৩. প্রতিনিধি,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়         সদস্য
৪. প্রতিনিধি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়                    সদস্য
৫. প্রতিনিধি, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়               সদস্য
৬. প্রতিনিধি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো                সদস্য
৭. প্রতিনিধি, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন             সদস্য
৮. প্রতিনিধি, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন           সদস্য
৯. পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা
১০. কর্মসূচি পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা-সদস্য
১১. মহা-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা      সদস্য-সচিব

৪.৩ মাতৃত্বকাল ভাতা জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কার্যপরিধিঃ

 

ক. মাতৃত্বকাল ভাতা কর্মসূচির নীতিমালা সংশোধন ও বাস্তবায়ন রূপরেখা চূড়ান্তকরণ।
খ. গর্ভধারিণী মা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংক্রান্ত ছক প্রণয়ন।
গ. মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর হতে কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রস্তাবনা অনুমোদন।
ঘ. সম বৈশিষ্ট সম্পন্ন সরকারের অপরাপর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উপায় বের করা। ভাতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আয়বর্ধক কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।
ঙ. এনিজিও সমূহের ভূমিকা/অংশগ্রহণ সম্পর্কে নির্দেশিকা প্রণয়ন।
চ. কর্মসূচির সামগ্রিক পরিকল্পনা, বাজেট ও ব্যয় মনিটরিং/মূল্যায়ন।
ছ. দেশী/বিদেশী উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ করে আর্থিক সহযোগিতা প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করা।
জ. কমিটি বছরে অন্তত দু’টি সভা করবে।

দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান নীতিমালা-২০১৫ (সংশোধীত)





পোস্টের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে নিচের ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসে
শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।




কোন মন্তব্য নেই

pollux থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.