আয়কর সম্পর্কে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর || Important questions and answers about income tax. - সকল গেজেট এক ঠিকানায়

আয়কর সম্পর্কে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর || Important questions and answers about income tax.

আয়কর সম্পর্কে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর || Important questions and answers about income tax.

 

                                   আয়কর সম্পর্কে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর।

 

আয়কর কি? কোন ব্যক্তি আয়কর প্রদানের জন্য উপযুক্ত? ন্যূনতম কর কি? আয়কর নিবন্ধন কি? কীভাবে আয়কর রিটার্ন জমা করতে হবে? আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়ার শাস্তি কি?

 

 

প্রতি অর্থ বছর শেষে যে আয়কর আপনাকে দিতে হচ্ছে বাংলাদেশে অনেকেই আছেন বেশ দক্ষতার সাথে সেটি সামাল দেন। কিন্তু বহু মানুষ আছেন যারা রীতিমতো হিমসিম খান। তথ্যের অভাবে ভুল করে থাকেন, নানা ঝামেলায় পড়েন। যারা নতুন আয়কর দিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেই এটি বেশি হয়ে থাকে।

 

প্রতি বছর ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে আপনাকে ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে। প্রতি অর্থ বছরে এই সময়ের মধ্যে একটি ফর্মে আপনার আয়, সম্পত্তি, আয়কর ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য হালনাগাদ করা। কেননা আপনার এ সম্পর্কিত তথ্য প্রতি বছর বদলে যেতে পারে। 

 

 

একবার টিন নম্বর নিয়ে নিলে সরকারকে জানিয়ে দিতে হবে আপনার বর্তমান অবস্থান। ট্যাক্স রিটার্ন না দিলে শাস্তির ব্যবস্থাও আছে। [Ref: www.bbc.com]

 

 

আয়কর সম্পর্কে নিম্নে ২৪টি প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হলো:

 

 

১. আয়কর কি?

 

আযকর হচ্ছে ব্যক্তি বা সত্ত্বার আয় বা লভ্যাংশরে উপর প্রদেয় কর| আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর আওতায় কর বলতে অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রদেয় আয়কর, অতিরিক্ত কর, বাড়তি লাভের কর, এতদসংক্রান্ত জরিমানা, সুদ বা আদায় যােগ্য অর্থকে বুঝায়৷ অন্য ভাবে বলা যায় যে, কর হচ্ছে রাষ্ট্রের সকল জনসাধারনের স্বার্থে রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রদত্ত বাধ্যতামূলক অর্থ।

 

 

২. কোন ব্যক্তি আয়কর প্রদানের জন্য উপযুক্ত?

অর্থ আইন ২০১৫ এর আওতায় প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতা (অনিবাসী বাংলাদেশী সহ), হিন্দু যৌথ পরিবার, অংশীদারী ফার্ম, ব্যক্তি সংঘ এবং আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তির আয়ের সীমা ২,৫০,০০০/= টাকার উপরে হলে আয়কর প্রদানের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। তবে

(১) মহিলা এবং ৬৫ বৎসর বা তদুর্ধ বয়সের ব্যক্তি করদাতা আয় ৩,০০,০০০/= টাকা এর উপরে হলে তিনি আয়কর প্রদানের উপযুক্ত হবনে।

(২) প্রতিবন্ধি করদাতা আয় ৩,৭৫,০০০/= টাকা এর উপরে হলে তিনি আয়কর প্রদানের উপযুক্ত হবেন।

(৩) গেজেট ভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় সীমা ৪,২৫,০০০/= টাকা এর উপরে হলে তিনি আয়কর প্রদানের উপযুক্ত হবেন। [করমুক্ত আয়ের সীমা সরকার কর্তৃক পরিবর্তিত হয়ে থাকে]

 

 

৩. আয়করের জন্য আয়ের খাত কি কি?

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ অনুযায়ী আয়ের খাত সমূহ নম্নিরূপ:

1. বেতনাদি 

 

2. নিরাপত্তা জামানতের উপর সুদ 

 

3. গৃহ সম্পত্তির আয় 

 

4. কৃষি আয় 

 

5. ব্যবসা বা পেশার আয়। 

 

6. মূলধনী মুনাফা 

 

7. অন্যান্য উৎস হতে আয়। তবে রিটার্ন জমা দেয়ার সময় নিম্নলিখিত আয়ের খাতগুলি সম্পৃক্ত হবে৷

8. ফার্মের আযের অংশ 

 

9. স্বামী/ স্ত্রী বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের আয়

 

 

৪. ন্যূনতম কর কি?

 

অর্থ আইন ২০১৫ মোতাবেক সাধারণভাবে করমুক্ত আযের সীমা ১,৫০,০০০/০০| করমুক্ত আযের সীমা অতিক্রম করলে করদাতাকে এলাকা ভেদে ন্যূনতম যে কর পরিশোধ করতে হয় তাকে ন্যূনতম কর বলে। ন্যূনতম করের পরিমান যথাক্রমে ৫০০০/০০ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন এরিয়া), ৪০০০/০০(অন্য সিটিকর্পোরেশন এরিয়া), ৩০০০/০০(সিটিকর্পোরেশন এর বাইরে অন্য যেকোন এরিয়া) [করমুক্ত আয়ের সীমা সরকার কর্তৃক পরিবর্তিত হয়ে থাকে]

 

 

৫. আয়কর প্রদানের জন্য কোন বয়স সীমা আছে কি?

অর্থ আইন ২০১৫ এর আওতায় প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতা উল্লেখ থাকলেও করদাতার সুনির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ নেই। তবে মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তি, প্রতিবন্ধীদের এবং গেজেট ভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধাদের কর মুক্তির সীমা ভিন্ন ভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই আয়সীমা ২,৫০,০০০/= টাকা অতিক্রম করলে উক্ত আয়ের উপর কর প্রযোজ্য, সে ক্ষেত্রে বয়স বিবেচ্য নয়।

 

 

৬. আয়কর নিবন্ধন কি?

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর আওতায় ন্যূনতম করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলে কিংবা ধারা 75(1A) তে বর্ণিত তালিকার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না, রিটার্ন দাখিলের জন্য একজন করদাতাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অন্তর্গত কোন আয়কর কমিশনারেটের অধীনে সার্কেলে থেকে ১২ ডিজিটের TIN গ্রহণ করে নিবন্ধতি হতে হয়। একেই আয়কর নিবন্ধন বলে।

 

 

৭. ই-টিআইএন কি?

ই-টিআইএন মানে ইলেকট্রনকি ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নাম্বার, ইহা আয়কর নিবন্ধনের আধুনিক সংস্করন। ইহা ১২ ডিজিটের ১টি নম্বর৷ একজন করদাতাকে সহজে, ঘরে বসে অনলাইনে নিবন্ধন পেতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। www. incometax.gov.bd এই সাইট গেলে ই-টিআইএন নিবন্ধন নেওয়া যাবে৷

 

৮. আমি ই-টিআইএন এর জন্য কীভাবে আবেদন করতে পারি?

আপনি ই-টিআইএন এর জন্য www. incometax.gov.bd এই সাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন এবং নিবন্ধন নিতে পারেন।

 

৯. ই-টিআইএন প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কি লাগে?

ধরনের উপর নির্ভর করবে টিআইএন সার্টিফিকেট পেতে কি কি তথ্য লাগবে নিম্নে দেওয়া হলো:

Individual প্রাপ্ত বয়স্ক: করদাতার নাম, বৈধ্য জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ (জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী)

Individual অপ্রাপ্ত বয়স্ক: করদাতার নাম, অভিভাবকের নাম, অভিভাবকের টিআইএন, করদাতার ছবি(সফট কপি পাসপোর্ট সাইজের)

বিদেশী, বাংলাদেশি without NID: পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, ভিসা নম্বর, ভিসা ইস্যুর তারিখ, কর দাতার ছবি (সফট কপি, পাসপোর্ট সাইজ)

কোম্পানির নাম (নিবন্ধন অনুযায়ী) নিবন্ধন নম্বর ও তারিখ।

ফার্মে (Registered): ফার্মের নাম (নিবন্ধন অনুযায়ী), নিবন্ধন নম্বর ও তারিখ।

ফার্মে (Unregistered): ফার্মের পার্টনারদের টিআইএন নম্বর এবং তাদের নাম।

Other (AOP, HUF local Authority, AJP: Authorized person / কর্তা ব্যক্তির টিআইএন নম্বর।

 

১০. আমি আমার আয়কর অধীক্ষেত্র কোনটি তা কিভাবে বুঝব?

প্রত্যেক শ্রেণীর করদাতার আয়কর অধীক্ষেত্র নির্ধারনের কিছু পদ্ধতি রয়েছে। যেমন করদাতার কর্মস্থল, করদাতার নিয়োগকারী প্রতিষ্টান, চাকুরির/ব্যবসার ধরন, মূল আয়ের উৎস ইত্যাদির বিবেচনায় কর অধীক্ষেত্র নির্বাচিত করা হয়। বর্তমানে www.incometax.gov.bd ওযেব সাইটে গিযে Jurisdiction Finder বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তত্ব প্রদান করলে ওযেব সাইটটি সয়ংক্রিয় ভাবে করদাতার আধিক্ষেত্র প্রদর্শন করিবে।

এছাড়াও নতুন করদাতা অনলাইনে টিআইএন আবেদন করলে টিআইএন সনদের সঙ্গে কর অঞ্চল ও কর সার্কেল উল্লেখ থাকবে৷ করদাতাকে স্বশরীরে অধীক্ষেত্র নির্ধারন বা সার্কেলে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

 

১১. টিআইএন সনদ কি?

একজন করদাতা কর প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন সার্কেলে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট সার্কেল থেকে উপকর কমিশনার কর্তৃক করদাতা সনাক্ত করতে যে সনদ প্রদান করা হয় তাকে টিআইএন সনদ বলে।

 

১২. আয়কর সনদ কি?

করদাতা পূর্ববর্তী কর বর্ষের আয়কর রিটার্ন জমাদিলে কর সার্কেল কর্তৃক যাচাই বাছাই ও মূল্যায়ন শেষে করদাতাকে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের উপকর কমিশনার কর্তৃক যে সনদ প্রদান করা হয় তাকে আয়কর সনদ বলে।

 

১৩. আমি ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন করতে পারি?

আপনি www.incometax.gov.bd ওযেব সাইট থেকে খুব সহজে ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস পরিবর্তন করতে পারবেন। উক্ত ওযেব সাইটে Login করে Change Contact মেনুতে ক্লিক করুন। স্ক্রিনে নতুন ফর্ম দেখতে পাবেন। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন শেষে নিচে কেন তথ্য পরিবর্তন করেছেন তার কারণ “Update Resoon” বক্সে লিখুন। অত:পর Save বাটনে ক্লিক করুন। আপনার পরিবর্তিত তথ্য ডাটাবেইজে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

 

১৪. আমার আয় আয়কর আরোপযোগ্য সীমার নিম্নে নেমে গেলে আমি কিভাবে আমার নিবন্ধন বাতিল করতে পারি?

আপনার আয় আয়কর আরোপ যোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে এবং যদি আপনার মনে হয় নিকট ভবিষ্যতে আয় সীমা ন্যূনতম আয়কর প্রদানের আওতায় আসবে না তাহলে আপনি সংশ্লিষ্ট সার্কেলের উপকর কমিশনার বরাবর টিআইএন বাতিলেন জন্য কারন ব্যাখ্যা করে আবেদন করতে পারেন। উপকর কমিশনার Inspection বা Hearing এর মাধ্যমে অথবা আবেদনের উপর ভিত্তি করে আপনার টিআইএন এর কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন।

 

১৫. আগাম আয়কর কি?

অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এক ধরনের কর যা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা পণ্যের উপর অর্পিত হয়। অনিবন্ধিত আমদানিকারকদের করের আওতায় আনতে ২০০৭ এ এই কর ব্যবস্থা চালু করা হয়। উল্লেখ্য যে, Return জমা দেয়ার সময় এআইটি একই ভাবে withholding tax এর মতই গণ্য হবে।

 

১৬. কর অবকাশ কি?

কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) হচ্ছে অস্থায়ী কর হ্রাস বা বর্জন ব্যবস্তা৷ সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান কে কর অবকাশ দেয়া হয়েছে যারা, শিল্প অঙ্গীকার করেছে এবং সকল শর্ত পূরণ করে ১ জুলাই ২০১১ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ এর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

১৭. করবর্ষ কি?

সাধারণতঃ আয়বর্ষের পরবর্তী বর্ষকে করবর্ষ বলা হয়। যেমন, ১লা জুলাই ২০১৪ হতে ৩০ শে জুন ২০১৫ সময়কাল পর্যন্ত উপার্জিত আয়ের আয়বর্ষ হইবে ২০১৪-২০১৫ এবং করবর্ষ হইবে পরবর্তী বর্ষ অর্থাৎ ২০১৫-২০১৬|

 

১৮. বাবার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি সন্তানের হিসাবে কিভাবে অর্ন্তভুক্ত করবে?

বাবার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে বন্টন হবে। এ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি হিসাবে অন্তরভুক্তি করতে প্রমানপত্র হিসাবে বন্টন নামা দলিল বা দানপত্র দলিল বা অন্য কোন যৌক্তিক প্রমান পত্র থাকতে হবে। যেহেতু উক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত তাই এই সম্পদের উপর কোন কর ধার্য হইবে না। এ ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।

 

১৯. বাবার মৃতুর পর তার টিআইএন বাতিল করার প্রয়োজনীয়তা আছে কি?

বাবার মৃত্যুর পর টিআইএন বাতিল করার প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে তার উত্তরাধিকারীদের উপর। যদি এমন কোন ব্যবসা বাবার নামে থাকে যা টিআইএন বাতিল করিলে ব্যবসা সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র বাতিল করে নতুন করে করতে হয় কিংবা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয় সে ক্ষেত্রে টিআইএন বাতিল না করে উত্তরাধিকারীরা প্রতিবছর বাৎসরিক রিটার্ন জমা দিযে Assessment করাতে পারবেন। আর যদি টিআইএন এর কোন প্রয়োজনীয়তা না থাকে তাহলে উত্তরাধিকারীরা উপকর কমিশনার বরাবর টিআইএন বাতিলের জন্য আবেদন করিতে পারেন। উপকর কমিশনার Inspection বা Hearing এর মাধ্যমে অথবা আবেদনের উপর ভিত্তি করে আপনার টিআইএন এর কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন।

 

২০. কোথায় আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়?

প্রত্যেক শ্রেণীর করদাতার রির্টান দাখিলের জন্য আয়কর সার্কেল নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন : A, B এবং C অক্ষরগুলো দিযে ঢাকা সিভিল জেলার অবস্থিত যে সকল বেসামরিক সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী ও পেনশনভুক্ত কর্মকর্তা/ কর্মচারীর নাম শুরু হযেছে তাদেরকে কর অঞ্চল-৪, ঢাকা এর কর সার্কেল-৭১ এ রিটার্ন জমা দিতে হবে৷ পুরানো করদাতারা তাদের বর্তমান সার্কেলে রিটার্ন জমা দেবেন। নতুন করদাতারা তাদের নাম, চাকুরীস্থল বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার ভিত্তিতে নির্ধারিত সার্কেলে ১২ সংখ্যার টিআইএন (e-TIN) উল্লেখ করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন। করদাতারা প্রয়োজনে কাছাকাছি আয়কর অফিস বা কর পরামর্শ কেন্দ্র থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত সার্কেল অফিস সম্পর্কে জানতে পারবেন৷

 

২১. আমি নির্ধারিত সমযে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে কী ধরণের ব্যবস্থা গৃহীত হবে?

নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করিলে, সংশ্লিষ্ট করদাতাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আবশ্যিকভাবে ধারা-১৩০ মোতাবেক নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে খেলাপী করদাতার সর্বশেষ আরোপিত আয়করের ১০% অথবা কমপক্ষে ১,০০০.০০ টাকা ও পরবর্তী প্রতি খেলাপী দিবসের জন্য ৫০.০০ টাকা, এ দু'টি মধ্যে যেটি বেশী, উপ-কর কমিশনার কর্তৃক তাহা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন৷ শর্ত থাকে যে,

(১) উপ ধারা-1241) অনুযায়ী কোন নতুন ব্যক্তি-করদাতা, যাহার আয়ের উপর ইতোপূর্বে কখনো করারোপিত হয় নাই, তাঁহার ক্ষেত্রে আরোপযোগ্য মোট জরিমানা পরিমান ৫,০০০/- টকার বেশি হইবে না;

(২) উপ ধারা -124(1) অনু্যায়ী কোন নতুন ব্যক্তি-করদাতা, যাহার আয়ের উপর ইতোপূর্বে করারোপিত হইয়াছে এমন কোন পুরানো ব্যক্তি-করদাতার ক্ষেত্রে এইরূপ জরিমানার পরিমাণ তাঁহার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ৫০% বা ১,০০০/- টাকা, দু'টির মধ্যে যেটি বেশি, তাহা জরিমানার আরোপযোগ্য হবে।

 

২২. আয়কর রিটার্ন জমার প্রয়োজনীয়তা কি?

আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট করদাতার বার্ষিক আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর রিটার্ন জমার মাধ্যমে করদাতার বার্ষিক আয়-ব্যয় এবং সম্পদ ও আযের তথ্য দাখিল হ্য়| নির্ধারিত সমযে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে, সংশ্লিষ্ট করদাতাকে উপ-কর কমিশনার কর্তৃক জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

 

২৩. কীভাবে আয়কর রিটার্ন জমা করতে হবে?

কোন আয়কর অফিস বা www.nbr.gov.bd এই ওযেব সাইট থেকে রিটার্ন ফর্ম সংগ্রহ করে করদাতা কর্তৃক পুরন করতে হবে। নতুন করদাতা হলে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি সত্যায়িত ছবি রিটার্নের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

বর্তমানে আয়কর রির্টান দাখিলের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে, যথা:

(১) সাধারণ পদ্ধতি এবং

(২) সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতি।

সাধারণ পদ্ধতি

রিটার্নে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতি উল্লেখ করা না হলে রিটার্নটি সাধারণ পদ্ধতির আওতায় দাখিলকৃত বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে রিটার্নে প্রদর্শিত আযের সমর্থনে যথোপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণাদি না থাকলে করদাতার শুনানী গ্রহণপূর্বক মামলা নিষ্পত্তির বিধান রযেছে।

 

সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতি

করদাতা তার নিজের আয় নিজে নিরূপন করে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করবেন। এই পদ্ধতিতে করদাতা রিটার্ন ফরম পূরণ পর্যায়ে রিটার্নের প্রথম পৃষ্ঠায় সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির ঘরে টিক প্রদান করলে কিংবা রিটার্নের উপরে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতি উল্লেখ করলে দাখিলকৃত রিটার্নটি সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে আওতায় গৃহীত হবে৷ এই পদ্ধতিতে করদাতার রিটার্ন দাখিল করলে বিনা প্রশ্নে আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রিটার্নটি গৃহীত হয়। রিটার্ন দাখিলের পর উপ কর কমিশনার বা তার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক করদাতাকে প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র কর নির্ধারণী আদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

২৪. আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়ার শাস্তি কি?

করদাতাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে আবশ্যিকভাবে ধারা-১৩০ মোতাবেক নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে খেলাপী করদাতার সর্বশেষ আরোপিত আয়করের ১০% অথবা কমপক্ষে ১,০০০.০০ টাকা ও পরবর্তী প্রতি খেলাপী দিবসের জন্য ৫০.০০ টাকা, উপ-কর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। তবে অর্থ আইন ২০১৫ এর মাধ্যমে সংযোজিত প্ৰভাইসো মোতাবেক -

(১) কোন ব্যক্তি-করদাতা, যাহার আযের উপর ইতোপূর্বে কখনো করারোপিত হয় নাই, তাঁহার ক্ষেত্রে আরোপযোগ্য মোট জরিমানা পরিমান ৫,০০০/- টকার বেশি হইবে না;

 

(২) কোন ব্যক্তি-করদাতা, যাহার আযের উপর ইতোপূর্বে করারোপিত হইযাছে এমন কোন পুরানো ব্যক্তি-করদাতার ক্ষেত্রে এইরূপ জরিমানার পরিমাণ তাঁহার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ৫০% বা ১,০০০/- টাকা, দুটির মধ্যে যেটি বেশি, তাঁহার বেশি হইবে না|

সূত্র: এনবিআর

লিঙ্ক

 

--------------------------------------

আরও দেখুন-

আয়কর পরিপত্র: ২০২০-২০২১

---------------------------------------

পোস্টের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের  ফেসবুকপেজে  লাইক দিয়ে রাখুন

 

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে নিচের ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসে

শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

কোন মন্তব্য নেই

pollux থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.