ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এ DPS খোলার নিয়ম ও সুবিধাসমূহ। - সকল গেজেট এক ঠিকানায়

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এ DPS খোলার নিয়ম ও সুবিধাসমূহ।

 ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এ  DPS খোলার নিয়ম ও সুবিধাসমূহ।


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এ  DPS খোলার নিয়ম ও সুবিধাসমূহ।

 

ইসলামী ব্যাংক DPS এবং এই ব্যাংকের অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে এই ব্যাংক অত্যন্ত সুনামের সাথে গ্রাহকদের সকল প্রকার সেবা প্রদান করে আসছে এছাড়াও, অনেকে এই ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছেন কারণ এটি শরিয়া ভিত্তিক যেহেতু আইবিবিএল ব্যাংকের শরিয়া বোর্ড আছে তাই এখানে সুদের সমস্যা কম তাই যারা ডিপিএস করতে আগ্রহী তাদের জন্য এই ব্যাংক যেকোনো দিক থেকে ভালো হবে এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক ডিপিএস- সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে বেশি মুনাফা থাকবে আপনি চাইলে এটি বিভিন্ন সময়ের জন্য করতে পারেন, যেমন: তিন, পাঁচ, দশ ইত্যাদি বছর বা মাস

ইসলামী ব্যাংক এর আগে এই DPS সিস্টেম চালু করেছে আপনি যদি ইসলামী ব্যাংক DPS খোলার নিয়ম এবং বিভিন্ন মেয়াদের জন্য DPS  রেট জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন আমি এই পোস্টে এর সুবিধা এবং কিস্তির হার সহ আপনার অন্যান্য সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব

 

ইসলামী ব্যাংক DPS.

 

আপনি যদি ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস করতে আগ্রহী হন তবে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাসিক কিস্তি পরিশোধ করে এই DPS পরিচালনা করতে হবে। আপনি যদি এই নিয়ম অনুসারে তাদের সাথে DPS পরিচালনা করতে পারেন তবে মেয়াদ শেষে আপনি কিছু লাভ পাবেন। ইসলামী ব্যাংকের এই ডিপিএসকে বলা হয় মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট।

 

List Of Islamic Bank DPS:

  • মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন) একাউন্ট।
  • মুদারাবা মোহর সেভিংস একাউন্ট।
  • মুদারাবা মান্থলি প্রফিট ডিপোজিট একাউন্ট
  • মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্ট
  • মুদারাবা সেভিংস বন্ড
  • মুদারাবা এনআরবি সেভিংস বন্ড একাউন্ট
  • মুদারাবা হজ সেভিংস একাউন্ট
  • ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট একাউন্ট
  •  

Islami Bank DPS rate:

মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন) একাউন্ট

 

মাসিক ১০০, ২০০, ৩০০, ৪০০, ৫০০, এভাবে করে ১০০০ বা ২০০০, ৩০০০ করে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত জমা করা যাবে। সময়কাল থাকবে ৩, ৫ ও ১০ বছর। যে কেউ এই একাউন্ট খুলতে পারবে। ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট ১০ বছরে প্রায় ৭%, ৫ বছরে প্রায় ৬.৫% এবং ৩ বছরে প্রায় ৬%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

মুদারাবা মোহর সেভিংস একাউন্ট:

জমা করতে পারবেন ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। সময়কাল হবে ৫ এবং ১০ বছর। ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট প্রায় ৫.৭% যা ৫ বছরের জন্য, এবং প্রায় ৬.৫% যা ১০ বছরের জন্য। যে কেউ এই হিসাব খুলতে পারবে। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

মুদারাবা মান্থলি প্রফিট DPS একাউন্ট:

মিনিমাম ১০০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে উপরের ‍দিকে যত বেশি আপনি জমা করতে পারেন। সময়কাল হবে ৩ ও ৫ বছর। যে কেউ খুলতে পারবে। ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট ৫ বছরে প্রায় ৭.৫ %, ও ৩ বছরে প্রায় ৭%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

মুদারাবা টার্ম DPS রিসিপ্ট:

মিনিমাম জমা করার এমাউন্ট হচ্ছে ১০০০ টাকা। সময়কাল হবে ৩ ও ৬ মাস, ১, ২, ও ৩ বছর। যে কেউ খুলতে পারবে। ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট ৩ মাসে প্রায় ৫.৫%, ৬ মাসে প্রায় ৫.৫%, এক বছরে প্রায় ৫.৬%, ২ বছরে প্রায় ৫.৮% এবং ৩ বছরে প্রায় ৬%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

মুদারাবা সেভিংস বন্ড একাউন্ট:

ডিপোজিট করা যাবে ১০০০, ৫০০০, ২৫০০০, ৫০০০০, ১০০০০০, ৫০০০০০, ১০০০০০০ টাকা। সময়কাল হবে ৫ ও ৮ বছর। ব্যাক্তিগত নামে বা জয়েন্ট একাউন্ট হিসেবে খোলা যাবে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য এই একাউন্ট খোলা যেতে পারে। ৮ বছরে ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট প্রায় ৬% এবং ৫ বছরে প্রায় ৫.৭৫%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

মুদারাবা এনআরবি সেভিংস বন্ড একাউন্ট:

ডিপোজিট করা যাবে ২৫০০০, ৫০০০০, ১০০০০০, ২০০০০০, ৫০০০০০, এবং ১০০০০০০ টাকা। সময়কাল হবে ৫ ও ১০ বছর। একাউন্ট করতে পারবেন প্রবাশী বাংলাদেশিরা তাদের নিজেদের জন্য এবং তাদের নাবালক সন্তানদের জন্য। প্রডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট ১০ বছরে প্রায় ৬.৫% এবং ৫ বছরে ৫.৮%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

মুদারাবা হজ সেভিংস একাউন্ট:

একাউন্টের সময়কাল হবে ১ থেকে ২৫ বছর। যে কেউ চাইলে একাউন্ট করতে পারবেন। ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট প্রায় ৭%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট একাউন্ট:

মিনিমাম ডিপোজিট করতে হবে ১০,০০০ টাকা। যে কেউ এই একাউন্ট করতে পারবে। ডিপিএস রেট বা প্রোফিট রেট প্রায় ৭%। এখানে ট্যাক্স যুক্ত হবে।

 

ডিপিএস এর কিস্তির হার:

আপনাকে হিসাব খোলার সময়ই ডিপিএস এর কিস্তির হার জেনে নিতে হবে ও তা নির্ধারণ করতে হবে। সেই সাথে সময়ও নির্ধারণ করতে হবে। আপনার জন্য যে অপশন থাকবে:

  • আপনি চাইলে ৫০০ (যা সর্বনিন্ম এমাউন্টও বটে) টাকার গুনিতক হিসাব করে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আপনার সুবিধা অনুযায়ি নির্ধারণ করে তা সঞ্চয় করতে পারবেন।
  • ব্যাংকের RDS ও UPDS সদস্যরা চাইলে ১০০ টাকার কিস্তিতে হিসাব খোলার সুযোগ পাবেন।
  •  

হিসাব খোলার যোগ্যতা দেখে নিন:

যারা ইসলামী ব্যাংকের অধীনে এই ডিপিএস খোলার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে:

  • বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে।
  • ১৮ বছরের প্রাপ্ত বয়ষ্ক হতে হবে।
  • অপ্রাপ্ত বয়ষ্করা তাদের অভিভাবকের অধীনে চাইলে এই একাউন্ট করতে পারবে।
  •  

হিসাব খুলতে যা, যা লাগবে:

  • আগ্রহীর পরিচয় পত্র ( ভোটার কার্ড/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/ পাসপোর্ট এর যে কোনো একটির কপি )।
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • নমিনির এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও আইডি কার্ডের ফটো কপি।
  • অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে আগ্রহীর জন্ম সনদ। সাথে অভিভাবকের আইডি কার্ড এর ফটো কপি এবং পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি।


ইসলামী ব্যাংক DPS খোলার নিয়ম:

আপনাকে আপনার নিকটস্থ ইসলামী ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে এবং ব্যাংক কর্মকর্তাকে বলতে হবে যে আপনি মুদারাবা বিশেষ সঞ্চয় হিসাব খুলতে চান। ব্যাংক কর্মকর্তা আপনাকে একটি ফর্ম দিবে, যেটি আপনাকে পূরন করতে হবে। পূরণ করে ডকুমেন্টস সহ ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংক আপনার নামে একটি ডিপিএস একাউন্ট ওপেন করবে।

 

এই DPS- এর সুবিধাসমূহ:

  • কোনো কারণে DPS হস্তান্তরের প্রয়োজন হলে তা সহজে হস্তান্তর করা যাবে।
  • সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যাক্তির যদি কোনো সেভিংস একাউন্ট থেকে থাকে তবে সেখান থেকে সয়ংক্রিয় ভাবে DPS এর কিস্তি পরিষোধ করা যাবে।
  • ডিপিএস এর মেয়াদ শেষ হলে ব্যাক্তি যদি তা উত্তোলন না করে তবে তা অটোমেটিক ব্যাক্তির সেভিংস একাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
  • শরীয়া ভিত্তিক হওয়ায় যারা সুদের ব্যপারে চিন্তিত থাকেন তাদের জন্য একটি বেটার অলটারনেটিভ এটি।
  • যে কেউ ‍হিসাব খুলতে পারবেন যদি বাংলাদেশি হন।

 Ref: bankline.info

 

আরও দেখুন-

CelIFin -Islami Bank Digital Banking App | Islami Bank's mobile app

 

পোস্টের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ‘‘Facebook Page” লাইক দিয়ে রাখুন

 

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে নিচের ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসে

শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

কোন মন্তব্য নেই

pollux থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.